
‘সাহাবী’ শব্দটি আরবী ভাষার ‘সুহবত’ শব্দের একটি রূপ। একবচনে ‘সাহেব’ ও ‘সাহাবী’ এবং বহুবচনে ‘সাহাব’ ব্যবহৃত হয়। আভিধানিক অর্থ সংগী, সাথী, সহচর, এক সাথে জীবন যাপনকারী অথবা সাহচর্যে অবস্থানকারী। ইসলামী পরিভাষায় ‘সাহাবা’ শব্দটি দ্বারা রাসূলুল্লাহর সা. মহান সংগী-সাথীদের বুঝায়। ‘সাহেব’ শব্দটির বহুবচনের আরো কয়েকটি রূপ আছে। তবে রাসূলুল্লাহর সা. সংগী-সাথীদের বুঝানোর জন্য ‘সাহেব’-এর বহুবচনে ‘সাহাবা’ ছাড়া ‘আসহাব’ ও ‘সাহব’ও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সাহাবীদের নিয়ে অনেক বই লিখা হয়েছে, যেইগুলো পড়লে আপনি জানতে পারবেন সাহাবিদের জীবন কেমন ছিলো, তারা কত সাধারন জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন। এমন কিছু বই এর নাম নিচে দেওয়া হলোঃ
২. জীবন যদি হতো নারী সাহাবির মতো
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)
হাদীস বর্ণনাকারী হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা:) । তিনি আনসার সাহাবীদের অন্যতম। তাঁর পূর্বপুরুষ খুদরা ইবনে আওফের নামানুসারে তাঁকে খুদরী বলা হয়। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা:) জন্মগ্রহণ করেন হিজরতের দশ বৎসর পূর্বে। হিজরতের বছরে (৬২২ খ্রিস্টাব্দে) তাঁরমাতা-পিতা দুজনই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।
হাদীস শাস্ত্র গবেষকদের বর্ণনা মতে, হাদীস শাস্ত্রে তাঁর অবদান অপরিসীম। তিনি সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের অন্যতম। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১১৭০টি।অসংখ্য তাবেয়ী তাঁর শিষ্য ছিলেন। হাদীস মুখস্থকরণ ও সংরক্ষণে তিনি অনন্য মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। হাফেজুল হাদীস হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে।
৭০ হিজরীতে জুমাবার মাদীনা মুনাওয়ারায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর জীবনকাল ৮৪ বৎসর। জান্নাতুল বাক্বী’র নূরানী কবরস্থানে তিনি সমাধিস্থ হন।
হযরত সাদ সালামি(রাঃ) এর ত্যাগের গল্পঃ
হযরত সাদ সালামি আল্লাহর নবীর সাহাবী ছিলেন । তিনি অত্যন্ত গরীব ছিলেন। একদিন তিনি রাসূল পাকের দরবারে বসের কাদছিলেন, হুজুর ( সা: ) তাকে কান্না করার কারন জিজ্ঞেস করলেন? উত্তরে সাদ (রা: ) বলতে শুরু করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ আমি কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছি ৮ মাস হল। আমি মদিনার অলিতে গলিতে কত জায়গায় ঘুরলাম বিয়ের জন্য কিন্ত আমি দেখতে অসুন্দর বলে কেউ আমার কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয় নি। আমি আপনার সকল সুন্নাত পালন করতে পারলেও আপনার একটি সুন্নাত বিয়ে যা আমি পালন করতে পারিনি । তাই আমি ভয়ে কান্না করছি যদি আল্লাহ পাক আমাকে এর জন্য জান্নাত থেকে বঞ্ছিত করেন।রাসুল (স: ) সাদকে বললেন এই মদিনার সবচেয়ে ধনী লোকের মেয়ে মদিনার সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ের সাথে আমি রাসূলতোমার বিয়ে দিয়ে দিলাম।
এখন তুমি আমর ইবনে ওহাবের বাড়িতে যাও এবং তাকে গিয়ে বলো আমি তার মেয়ের সাথে তোমার বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। সাদ (রা: ) আমর ইবনে ওহাবের বাড়িতে গেলেন এবং সব কিছু খুলে বললেন । সবকথা শুনে আমর ইবনে ওহাব খুব রাগন্নিত হয়ে তার সাথে খারাপ আচরণ করে বাড়ি হতে বের করে দিলেন। এদিকে আমর ইবনে ওহাবের মেয়ে ঘরের ভেতর থেকে সব শুনতে পেলেন । যখন আমর ইবনে ওহাব ঘরে ঢুকলেন তার মেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলো বাবা তোমাকে এত বড় সাহস কে দিল যে রাসূলের কথা অমান্য করলেন?আল্লাহর রাসূল আমার জন্য যে ছেলেকে পছন্দ করেছেন আমিও তাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিলাম। আমর ইবনে ওহাব দৌড়ে রাসূলের দরবারে গেলেন এবং রাসূলের কাছে মাফ চাইলেন। প্রিয় নবীজী (সা.) তাকে মাফকরে দিলেন। আর সাদ (রা: ) এর বিয়ের জন্য ৬০০ দিরহাম মোহরানা ধার্য করলেন এবং বললেন এখন তুমি তোমার স্ত্রীর কাছে যাও। কিন্ত সাদ (রা: ) এত গরীব ছিলেন তার পক্ষে ৬০০ দিরহাম জোগাড় করা সম্ভব ছিল না | তাই অন্যান্য সাহাবীরা মিলে সাদ (রা: ) কে সাহায্য করলেন যাতে উনি উনার স্ত্রীর মোহরানা আদায় করেও নতুন বৌয়ের জন্য কিছু সদাই করতে পারেন।
ওদিকে সাদ (রা: ) বাজারে গেলেন কেনাকাটা করার জন্য। হঠাৎ শুনতে পেলেন মদিনার বাজারে কে যেন জিহাদের ডাক দিচ্ছে ? জিহাদের ডাক শুনে সাদ (রা: ) ভাবলেন, আমি সাদ ফুলের বিছানা বাসর ঘরে নতুন স্ত্রীর কাছে যাবো না আমি রাসূলের মহব্বতে জিহাদে যাবো । তাই তিনি বিয়ের টাকা খরচ করে যুদ্ধেরসরঞ্জাম ক্রয় করে জিহাদে চলে গেলেন। এদিকে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সাদ (রা: ) একের পর এক কাফিরকে হত্যা করে জাহান্নামে পাঠাতে লাগলেন। যুদ্ধ করতে করতে হঠাৎ সাদ (রা: ) শাহাদাতের পেয়ালায় শরবত পান করে শহীদ হয়ে গেলেন।
এদিকে যুদ্ধ শেষ হল। রাসুল (স: ) ও সাহাবীরা কাছে গিয়ে দেখলেন এ যে সাদের লাশ। সাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে রাসূল (স: ) কেঁদে দিলেন আবার পরক্ষণেই আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলেন এবং আকাশহতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। একজন সাহাবী আবু লুবাবা রাসূলকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন। রাসুল (স: ) বললেন আমার সাদ ফুলের বিছানা বাসর ঘরেযায়নি, আমার মহব্বতে শহীদহয়ে গেল তাই স্নেহের কারণে আমার চোখ হতে পানি ঝড়ে পড়ল।আর আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলাম কারণ আল্লাহ আমার সাদকে খুব সুন্দর একটা মাকাম দান করেছেন আর চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ হল আমার সাদ শহীদ হয়েছে তাই আকাশের সব দরজা খুলে গিয়েছে। বেহেস্ত হতে অসংখ্য হুর দৌড়ে আসতেছে যে কার আগে কে সাদকে কোলে নিবে ? দৌড় দেওয়ার কারণে হুরদের সামনের পর্দা সরে যাচ্ছিলো যা দেখে আমি রাসূল লজ্জায় চোখ ফিরিয়ে নিলাম।
0 Comments